হলফনামায় শেখ হাসিনার সম্পদের তথ্য গোপনে কিছু করার নেই: দুদককে ইসি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঠানো চিঠির জবাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, 'নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া শেখ হাসিনার হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের বিরুদ্ধে এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু করার নেই।'
শুক্রবার (১৮ জুলাই) ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
আখতার আহমেদ বলেন, আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী এটাতে ইসির কিছু করার নেই।
তিনি বলেন, আমাদের রিপ্লাই জানিয়ে দিয়েছি। দুদককে চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি, আরপিওর বিধানে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আরপিওতে এ ধরনের কোনো প্রভিশন নেই জানিয়ে দিয়েছি।
গত ২২ মে নির্বাচন কমিশন সচিবকে দুদকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় নিজের সম্পদের বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। এ বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর আওতায় তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দুদকে শেখ হাসিনার দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে দেখা যায়, তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে হলফনামায় ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার দাম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। কিন্তু দুদক যাচাই করে দেখেছে, শেখ হাসিনার নামে ২৮ দশমিক ৪১১ একর কৃষিজমি রয়েছে। যার মধ্যে কেনার জমির মোট দাম ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা। এ হিসাবে তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ক্রয়মূল্যও প্রকৃত দামের চেয়ে ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন, যা হলফনামায় 'অসত্য তথ্য দেওয়ার শামিল'।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার একগুচ্ছ আইনি সংস্কার আসছে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ইতোমধ্যে হলফনামার অসত্য তথ্য দিলে ভোটের পরেও ব্যবস্থা নেওয়া এবং নির্বাচন বাতিলের মতো সুপারিশ করেছে।
সার্বিক সুপারিশ পর্যালোচনা করে আরপিও সংস্কার প্রয়োজনীয় প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত করলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে সায় পেলে পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশ আকারে সংশোধন যুক্ত হতে পারে।
Comments