আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস: শিক্ষকতার মর্যাদা ও দলীয়করণের সংকট
আজ ৫ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। জ্ঞান, মুক্তবুদ্ধি ও নৈতিকতার আলোয় শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব শিক্ষকদের কাঁধে থাকলেও, বর্তমানে নানা অনিয়ম, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও দলীয়করণের কারণে শিক্ষকতার মর্যাদা ও শিক্ষার পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
জাতির গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশব্যাপী ১০১ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিচ্ছে সরকার। পূর্বে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে ২ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুণী শিক্ষকদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা—সব স্তরেই দলীয়করণের কালো ছায়া রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়, আনুগত্য কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে আদর্শ যাচাই করে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ফলে মেধা ও পেশাগত দক্ষতা প্রায়ই পিছিয়ে পড়ে। শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক সংগঠনের নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দলীয় প্রভাবের কারণে শিক্ষাঙ্গনে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা।
বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব বা আন্দোলনের মুখে শিক্ষক লাঞ্ছনা, জোরপূর্বক পদত্যাগ ও বরখাস্তের ঘটনা ঘটে। তথ্যমতে, প্রায় ৬ হাজার শিক্ষক এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে আড়াই হাজার শিক্ষক কাজে ফিরলেও সাড়ে তিন হাজারের বেশি শিক্ষক এখনো শ্রেণিকক্ষের বাইরে রয়েছেন।
শিক্ষকদের অতিমাত্রায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়ানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে নতুন আচরণবিধি তৈরির কাজ চলছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত রেখে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল ও নীতিনির্ধারক উভয়কেই আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
Comments