রামিসা হত্যা: পুলিশ হেফাজতে আসামির বক্তব্য ও প্রচার বন্ধের নির্দেশ
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এখন থেকে পুলিশ হেফাজতে এবং আদালতের বাইরে থাকা অবস্থায় আসামিরা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে পারবেন না এবং গণমাধ্যমে তা প্রচারও করা যাবে না।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই আদেশ দেন।
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে আদালতের বাইরে আসামিদের বক্তব্য প্রদান এবং তা গণমাধ্যমে প্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু।
আদালতে শুনানির সময় তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন,'আইন অনুযায়ী, বিচারকের সামনে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো আসামির বক্তব্য দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা বা দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার করা দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা, জনমত প্রভাবিত হওয়া রোধ এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। পরে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি মঞ্জুর করে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে, আজ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে একই আদালতে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দিনেই মামলার বাদী ও নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার আদালতে তাদের জবানবন্দি প্রদান করেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন।
এরপর, সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে আদালতের ভেতরে সাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে (ক্যামেরা ট্রায়াল) নিহত শিশু রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন বিচারক।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার এই মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আজ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
Comments