৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেটে ডেমোক্র্যাট, হারলেন ট্রাম্পের প্রার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে তাঁর জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো কানসাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর নির্বাচিত হলেন। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে ১৬ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এমন একটি রিপাবলিকান-প্রধান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এই জয়কে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের শুরুতে রজার মার্শালের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারণা করা হয়েছিল।
মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে ১০০ আসনের মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ৫৩টি আসন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৭টি। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানোর প্রয়োজন।
৬২ বছর বয়সী অ্যাডাম হ্যামিল্টন দেশটির বৃহত্তম ইউনাইটেড মেথডিস্ট গির্জার প্রতিষ্ঠাতা যাজক। ধর্ম ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে ৩০টির বেশি বই লিখেছেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দুই দলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন হ্যামিল্টন। নিজেকে 'স্বাধীন চিন্তাধারার ডেমোক্র্যাট' হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁকে কট্টর বামপন্থী হিসেবে তুলে ধরার রিপাবলিকান প্রচারণার বিরোধিতা করেন।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমে ওঠে। রজার মার্শালের পক্ষে প্রচারণা চালাতে কানসাসে যান ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গত ১৯ অক্টোবর উইচিটা এলাকার কাছে এক নির্বাচনী সমাবেশে কৃষকদের জন্য ৮০০ কোটি ডলারের জ্বালানি সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ফসল কাটার মৌসুমে ডিজেলের বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে এই অর্থ দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কানসাসের কৃষকেরা আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। তাঁদের সমর্থন পেতে নির্বাচনী প্রচারে দুই প্রার্থীই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে, রাজনীতিতে আসার আগে প্রসূতি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন ৬৬ বছর বয়সী রজার মার্শাল। ২০১৬ সালে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২০ সালে সিনেটর হন তিনি।
তবে নির্বাচনের আগে বিতর্কেও জড়ান মার্শাল। গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় ৭০০ জনের বেশি রোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল তাঁর সাবেক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিবেদনটিকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ' বলে দাবি করেন মার্শাল। তাঁর বক্তব্য, বকেয়া অর্থ আদায়ে প্রচলিত নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে।
Comments