দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রনে বাইরে থেকে গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি
বায়ুদূষণে বিপর্যস্ত ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ একদিনেই মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে প্রশাসন।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দূষণ নিয়ন্ত্রণে এদিন প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় ৫৬৬টি মামলা বা চালান দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের পুরোনো যানবাহনগুলোর প্রবেশ ঠেকাতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ যৌথভাবে ১৪ হাজার ৯৩০টি গাড়ি পরীক্ষা করে। এর মধ্যে প্রায় ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ গাড়িকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনের মধ্যে রয়েছে ১৪০টি হালকা মোটরযান (এলএমভি), ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান (এলসিভি), ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান এবং ৩৪টি বাস। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, গন্তব্য দিল্লি নয়—এমন ৭ হাজার ২৭৯টি ট্রানজিট যান পরীক্ষা করে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে সিএনজি চালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত ৭৪০টি গাড়িকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়।
যানবাহন ছাড়াও নির্মাণ ও ভাঙার কাজ থেকে ছড়ানো ধুলা নিয়ন্ত্রণেও ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ বিভাগ। মোট ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ৩২টিতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বড় ও ছোট—উভয় ধরনের নির্মাণস্থলেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় কাজ বন্ধের নির্দেশ, কারণ দর্শানোর নোটিশ ও আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, "নির্মল বাতাস নিশ্চিত করতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দয়া করে পিইউসি সনদ বৈধ রাখুন এবং প্রবেশের নিয়ম ও ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে চলুন।"
বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এই শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিএস-৬ মানের আগের মডেলের বাইরের গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা, পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মীর অংশগ্রহণে হোম অফিস বা দূর থেকে কাজ করার মতো নির্দেশিকা কার্যকর করা হয়েছে।
Comments