হুতিদের আক্রমণ মধ্যপ্রচ্যকে যেদিকে ঠেলছে
১০ অক্টোবর রাতে সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের আক্রমনে হঠাৎ নেমে এলো ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসযজ্ঞ। এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন এবং আহত আরও তিন শতাধিক মানুষ। এর আগেও বিভিন্ন সময় মধ্যপ্রাচ্যে হামলার ঘটনা হয়েছে। সেসব হামলাতেও হুতিদের সংশ্লিষ্টতা ছিলো।
এর আগে ৪ অক্টোবর আরামকো তেল স্থাপনায় হামলায়ও বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। বারবার এই হামলাগুলোয় উঠে আসছে হুতিদের নাম। এই হুতিরা আসলে কারা? কেন বার বার টার্গেট হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য? কেন মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে হুতি গোষ্ঠীরা? কি চায় হুতিরা? এর পেছনে কি কোন বড় স্বার্থ লুকিয়ে আছে? মধ্যপ্রাচ্য কি তবে বড় হুমকির মুখে?
হুতি কারা ও তাদের উদ্দেশ্য কী?
ইয়েমেনের উত্তরভাগের জেইদি শিয়া সম্প্রদায় অনুসারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী 'হুতি' বা আনসারাল্লাহ। মূলত ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের ক্ষমতার একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হলে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুতিরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে যাতায়াত করা বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে প্রায় ১০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। তাদের মূল কথা একটাই গাজায় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা থামবে না।
বারবার আক্রমণের পেছনে কি বড় কোন স্বার্থ লুকিয়ে আছে?
প্রশ্ন হলো শুধু গাজা নয়, কেন তারা বারবার সৌদি আরব বা বাণিজ্যিক রুটে আঘাত হানছে? এর পেছনে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াই। মধ্যপ্রাচ্যে সুন্নি প্রধান সৌদি আরব ও শিয়া প্রধান ইরানের দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি ও শক্তির জানান দিতেই সৌদি আরব ও পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত হানছে। পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করার একটি কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্য কি বড় হুমকির মুখে?
রিয়াদ বিমানবন্দরে এই প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এটিকে 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ' আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একে একে সাধারণ প্রবাসীদের প্রাণহানি আর ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বকে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি নাকি সর্বগ্রাসী সংঘাত কোন দিকে এগোচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য?
Comments