দিল্লিতে বিক্ষোভের আগেই ধরপাকড়, আটক সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাসহ ৩ নেতা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা কয়েকজনও রয়েছেন।
বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। কয়েকটি এলাকায় জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইনের ১৬৩ ধারা। পাশাপাশি কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দিল্লিগামী সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিলের কথাও জানানো হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁর সঙ্গে দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন তাঁরা। এর আগে অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছিলেন, কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেও তিনি প্রস্তুত। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকার নিরাপত্তার বিধিনিষেধ আরোপ করে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।
দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার এবং মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন সিজেপির এই নেতা। তাঁর দাবি, সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হওয়া তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ নম্বর ধারায় অন্তত ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার সকাল ৬টা থেকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। বিভিন্ন মোড়ে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিছু এলাকায় যান চলাচলের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বিক্ষোভের আগে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের মাইকিংও চলতে দেখা গেছে। মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, ট্রেন বাতিল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার
Comments