হুতিবিরোধী অভিযানের শুরুতেই বড় সাফল্যের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। অভিযান শুরুর পরপরই প্রাথমিক সাফল্যের দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
সোমবার সরকারি বাহিনী জানায়, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলবর্তী একটি এলাকা তারা হুতি বিদ্রোহীদের কবল থেকে মুক্ত করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান এই নৌপথটিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনরুদ্ধার করা ধুবাব জেলা থেকে কৌশলগতভাবে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর কড়া নজরদারি রাখা সহজ হবে।
সম্প্রতি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলবর্তী বিভিন্ন অঞ্চল দখলে নেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের অগ্রযাত্রা রোধ এবং হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে রোববার থেকে এই সম্মিলিত সামরিক অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে আকাশপথে জোরালো সহায়তা দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বাব আল-মান্দেব থেকে হুতিদের পুরোপুরি হটিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেনের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সামির আল-সাবরি বলেন, "সামরিক অভিযানের প্রথম ধাপে বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং কৌশলগত বন্দরনগরী মোখাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা বর্তমানে সমন্বিত পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সেনাবাহিনী হুতিদের পরাস্ত করতে সঠিক পথেই এগোচ্ছে। ইয়েমেনের প্রতিটি প্রদেশে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। অদূর ভবিষ্যতে হুতিদের দখলমুক্ত করার এই প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হুতি বাহিনীকে একই সঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে লড়তে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। এর মূল উদ্দেশ্য হলো— বিদ্রোহীরা যেন কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় নিজেদের শক্তি একত্র করে লোহিত সাগর উপকূলের হারানো ভূখণ্ড পুনরায় দখলের সুযোগ না পায়।
Comments