নেপালে নতুন করে ভূমিধস: পাহাড়ে আটকা পড়া পর্যটকদের হেলিকপ্টারে উদ্ধার
ভয়াবহ বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই নেপালে নতুন করে আঘাত হেনেছে ভারী বৃষ্টিপাত ও একাধিক ভূমিধস। এতে দেশটিতে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষদিক থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে ১ হাজার ৯০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ২৪০টির বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি সড়ক ও সেতু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের যোগাযোগ সংকট তৈরি হয়েছে।
নেপালের পর্যটনের অন্যতম জনপ্রিয় রুট 'অন্নপূর্ণা সার্কিট'-এ ভ্রমণে যাওয়া শত শত পর্বতারোহী ও পর্যটক চরম বিপাকে পড়েছেন। রুটটির মানাং ও মুস্তাং জেলা থেকে বহু পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের পর্যটক জেক স্টেসি জানান, ভারী তুষারপাত ও ভূমিধসের কারণে তাদের পাহাড়ি ঢাল বেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অস্ট্রেলীয় পর্যটক অ্যান্ড্রু গ্র্যাহাম জানান, মানাং গ্রাম থেকে ফেরার পথে তাদের ১৫টিরও বেশি ভূমিধস এলাকা পার হতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে চামে গ্রামে পৌঁছে ঝুঁকি এড়াতে তাদের এক রাত জঙ্গলেই কাটাতে হয়। চামে গ্রামে একটি বিশাল ভূমিধসের ফলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বেশ কিছু বসতবাড়ি ও একটি প্রধান সেতু তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনে খননযন্ত্র দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
পর্যটকরা কোনোভাবে উদ্ধার পেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন মারাত্মক বিপর্যয়ে। রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তর-পশ্চিমে বাটার এলাকার তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বুটি তামাং বলেন, আমাদের কুঁড়েঘর ও অনেক আত্মীয়কে হারিয়েছি, এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অপর ক্ষতিগ্রস্ত রামেশ ঘালে জানান, টানা বৃষ্টির কারণে তাঁবুর ফুটো দিয়ে পানি পড়ায় ভীষণ কষ্টকর পরিস্থিতিতে দিন কাটছে তাদের।
হিমলুং পিক-এর পাদদেশে তুষারধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
মানাং জেলায় অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষতি হলেও ট্র্যাকিং অঞ্চলে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার মুক্তি প্রসাদ খনাল। তবে 'অন্নপূর্ণা কনজারভেশন এরিয়া প্রজেক্ট'-এর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পোখরায় এখনো প্রায় ৭০০ পর্বতারোহী ও পর্যটক অপেক্ষা করছেন। ব্যবসায়ী মহলের চাপ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার স্বার্থে রুটটি এখনই উন্মুক্ত করা হচ্ছে না।
এছাড়া সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় মুক্তিনাথ দর্শনে যাওয়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জোমসোম থেকে বিমানযোগে পোখরায় ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Comments