মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ফাতিমা মানসুরি
মরক্কোর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনে উদার-মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি' (পিএএম)-এর জয়ের পর দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরিকে নিয়োগ দিয়েছেন রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
রাজপ্রাসাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজা মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। ২০০৮ সালে রাজার এক উপদেষ্টার প্রতিষ্ঠিত 'পিএএম' দলটি শুরু থেকেই সামাজিক আধুনিকীকরণ ও ধর্মনিরপেক্ষ ধারার নীতি প্রচার করে আসছে। ইসলামপন্থী 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' (পিজেডি)-র বিপরীত মেরুতে থেকে দলটি দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ভারসাম্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্ষমতা রাজার হাতেই ন্যস্ত। সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি সভায় (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই সরকারপ্রধান নির্বাচন করা হয়।
বিদায়ী জোট সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল পিএএম এবার নির্বাচনে শীর্ষ স্থান দখল করেছে। নির্বাচনে ৯৭টি আসন পেয়ে বিজয়ী হয় তারা। অন্যদিকে, উদার-মধ্যপন্থী 'ন্যাশনাল র্যালি অব ইনডিপেনডেন্টস' (আরএনআই) ৬৬টি এবং রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী দল 'ইস্তিকলাল' ৬৫টি আসন লাভ করেছে। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলইলাহ বেনকিরানের দল পিজেডি ৫৪টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার নেমে এসেছে প্রায় ৩৮ শতাংশে, যা গত নির্বাচনে ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ।
বিজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে নির্বাচনের ঠিক আগে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান এবং দুইবারের বাজেট ব্যবস্থাপক ফৌজি লেকজাকে দলে ভেড়ানোর কৌশল। পেশায় আইনজীবী এল মানসুরি এর আগে মারাকেশের মেয়র এবং বিদায়ী সরকারের আবাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জসমূহ
২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবল: পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক মরক্কো। এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রস্তুতি প্রকল্পের শেষ ধাপ তদারকি করতে হবে নতুন সরকারকে।
যুব-অসন্তোষ নিরসন: গত জুলাইয়ে 'সেউতা' সীমান্তে তরুণদের ভিড় এবং বিগত বছরগুলোতে 'জেন-জি'দের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দূর করতে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
নির্বাচনী প্রচারণায় আরএনআই-এর সঙ্গে জোটে না যাওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেও, বৃহস্পতিবার ফাতিমা মানসুরি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সরকার গঠনে তাদের সামনে কোনো "কঠোর শর্ত বা বাধা" নেই। তিনি বলেন, "আমরা পেছনের অধ্যায় মুছে ফেলে সামনে এগিয়েছি।" এখন তিনি একটি জোট সরকার গঠনে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং খুব শীঘ্রই মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা রাজার অনুমোদনের জন্য পেশ করবেন।
উল্লেখ্য, মরক্কোয় নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করার অংশ হিসেবে রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ অতীতেও নারী উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন এবং বিভিন্ন শীর্ষ প্রাতিষ্ঠানিক পদে নারীদের স্থান দিয়েছেন। বিদায়ী সরকারেও চারজন নারী মন্ত্রী সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
Comments