আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর ঊর্ধ্বগামী
প্রায় এক সপ্তাহ টানা দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে দামের উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি কাড়ে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগাম প্রত্যাশা বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রাখছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক লেনদেনে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৯৮২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের হিসেবে এখন পর্যন্ত দাম বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণে ঝুঁকছেন অনেক বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত তথ্যের আগে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার প্রবণতায়।
শুধু স্পট মার্কেটেই নয়, ফিউচার্স বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এপ্রিল মাসে সরবরাহযোগ্য স্বর্ণের ফিউচার্স ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে—এমন প্রত্যাশা কমে গেছে। সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকলে ডলারের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর আসন্ন মূল্যস্ফীতি তথ্যের দিকে। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হলে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়। ফলে শিগগিরই নতুন মূল্যতালিকা ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল ইঙ্গিত দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিতে কী সিদ্ধান্ত আসে—তা-ই এখন স্বর্ণবাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।
Comments