ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি (ইআরএল) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র জ্বালানি তেল শোধানাগার। কেপিআইভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই প্রথম শ্রেণীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজ অফিস কক্ষে ভয়ঙ্কর ড্রাগ ইয়াবা সেবনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্টোরের সহকারি মহাব্যবস্থাপক মো. তারিক হোসেন।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ও স্থির চিত্র এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, টেবিলের ওপর ছড়ানো ছিটানো ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম। সেখানে তারিক হোসেন অন্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের হাতে মদের বোতল।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারিক হোসেন বলেন, এটা যে আমার অফিস কক্ষ আপনি সেটা কীভাবে প্রমাণ করবেন? তাছাড়া আমার টেবিলে ইয়াবা সেবনের জিনিসপত্র থাকলেও সরাসরি আমি ইয়াবা সেবন করছি এমন ভিডিও সেখানে নেই। আমি অন্যকিছু খাচ্ছিলাম।
তারিক হোসেন উল্টো অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারাই আমাকে বিপদে ফেলার জন্য এসব ভিডিও ধারণ করে প্রচার করছেন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় বসে নিষিদ্ধ মাদক সেবন করা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এমন দায়িত্বশীল চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে ইয়াবার মতো মাদক গ্রহণের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হচ্ছে বলে ইআরএলের কর্মকর্তারাই মনে করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরএলের এক কর্মকর্তা জানান, তারিক হোসেনের এমন কর্মকান্ড সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও অনেকে অবগত আছেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে দার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। উল্টো তিনি সম্প্রতি সহকারি মহা-ব্যবস্থাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (পার্সোনাল) আবু হাসনাত বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে কেউ এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ না করলে আমার পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব না।
এ বিষয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক তাজুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন গাড়ি ড্রাইভ করছি। আপনাকে পরে কথা বলতে হবে।
Comments