জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার হলেও ঘটনার জট কাটছে না
জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি হওয়া ম্যাকবুক ল্যাপটপটি কীভাবে নাটোরের এক কাপড় ব্যবসায়ীর দোকানে পৌঁছাল—তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ব্যবসায়ীর দাবি তিনি ল্যাপটপটি কুড়িয়ে পেয়েছেন, অন্যদিকে পুলিশ ও পর্যটক বলছেন তারা লোকেশন ট্র্যাক করেই ওই দোকানে পৌঁছেছেন। এ ঘটনায় নানা তথ্যের কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে এক নতুন মোড় নিয়েছে।
ব্যবসায়ী ও পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য: কাপড়িয়াপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী অমল কুমার সাহা দাবি করেছেন, তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে নওগাঁ যাওয়ার সময় তিনি আসনের নিচে ল্যাপটপটি পড়ে থাকতে দেখেন এবং কুড়িয়ে পান। পরে ছেলে অন্তর কুমার সাহার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পুলিশকে জানান তিনি।
তবে পুলিশ ও পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে ক্রিল জানিয়েছেন, অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে তিনি সারাক্ষণ ম্যাকবুকের লোকেশন ট্র্যাক করছিলেন এবং সেটি পুলিশ ও এসআরবিকে পাঠাচ্ছিলেন। মাঝখানে কিছুদিন লোকেশন পাওয়া না গেলেও গত রোববার রাতে লোকেশন পাঠানোর পর পুলিশ ওই দোকানের ভেতর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়ী অমল বা তাঁর ছেলে অন্তর এই চুরির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পর্যটক ক্রিলও বলেছেন, 'ল্যাপটপটি কীভাবে ওই দোকানে গেল, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। পুলিশ ল্যাপটপ নিয়ে ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করবে, সেখানেই বিস্তারিত জানা যাবে।'
উদ্ধার অভিযানের সময় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, ক্রিলের দেওয়া লোকেশন অনুযায়ী প্রথমে ওই দোকানে পৌঁছায় এসআরবি। সে সময় ব্যবসায়ী অমল বা তাঁর ছেলে দোকানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তল্লাশি করেও তখন ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে বাবা-ছেলে দোকানে আসেন এবং এরপরই ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর বিকেলে ক্রিলের ল্যাপটপটি চুরি হয়। আর ব্যবসায়ী অমল কুমার সাহার দাবি, তিনি ল্যাপটপটি কুড়িয়ে পেয়েছেন ৮ অক্টোবর। এই সময়ের ব্যবধান ও পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
Comments