গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, সারা শরীরে জখম—১১ বছরের শিশুর আর্তনাদ
স্ত্রীকে সড়ক দুর্ঘটনায় হারানোর পর একমাত্র মেয়েকেই জীবনের ভরসা করে বড় করছিলেন বাবা। মেয়ের কষ্ট হবে ভেবে আর বিয়ে করেননি তিনি। কিন্তু আর্থিক সংকট ও সন্তানের ভবিষ্যতের আশায় সাত মাস আগে ১১ বছরের মেয়েটিকে ঢাকার উত্তরার একটি বিত্তবান পরিবারের বাসায় কাজে দেন। সেই পরিবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—মেয়ের বিয়েসহ সব খরচ বহন করবে। এখন সেই মেয়েই হাসপাতালে, সারা শরীরে নির্যাতনের দাগ।
মঙ্গলবার দুপুরের পর মুঠোফোনে কথা হয় মেয়েটির বাবার সঙ্গে। তিনি জানান, গত বছরের জুনে মেয়েকে যে বাসায় কাজে দেওয়া হয়েছিল, সেটি রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসা। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়েকে আনতে গিয়ে তিনি দেখেন, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। কীভাবে এমন হলো জানতে চাইলে সাফিকুরের স্ত্রী বিথী আক্তার সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মেয়েটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর গত রোববার উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির বাবা। মামলায় সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বিথী আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। একই দিন দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে সাফিকুর ও বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মেয়েটির বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর মেয়ের গলা, পিঠ, হাত, পা—প্রায় সারা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরজুড়ে পোড়া ক্ষতও দেখা গেছে। তাঁর অভিযোগ, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে শিশুটিকে। ঠিকমতো কথা বলতেও পারছে না সে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।
মেয়েটির পরিবারের বাড়ি পঞ্চগড়ে। বাবা আশুলিয়ার একটি হোটেলে কাজ করেন। তিনি জানান, গত বছরের জুনে বিমান এমডির বাসার নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে তাঁর পরিচয় হয়। জাহাঙ্গীর জানান, বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার কাজে একটি ছোট মেয়ে দরকার। পরে তিনি বাসায় গিয়ে সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথীর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা মেয়ের ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচ বহনের আশ্বাস দিলে তিনি রাজি হন। সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন। এরপর কয়েকবার দেখা করতে চাইলে নানা অজুহাতে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। গত ৩১ জানুয়ারি বিথী ফোন করে জানান, মেয়েটি অসুস্থ—তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় বাসার বাইরে এসে মেয়েকে বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
Comments