সুনামগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার অভিযোগ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুস সামাদ মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটানোর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার সম্মানহানি করার চেষ্টা করছেন।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১২ টায় সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ অভিযোগ তুলেন আব্দুস সামাদ মুন্সি।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সামাদ মুন্সি বলেন, তিনি ২০১০ সাল থেকে সুনামগঞ্জে বসবাস করছেন এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। ২০০৯ সালে তিনি উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হন এবং পরে উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি রাজনৈতিক মামলার শিকার হন।
সামাদ মুন্সি জানান, আসন্ন ইউনিয়ন সম্মেলনে নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক, তবে দলের ভেতরে একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা বা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা তাকে যে পদে দেখতে চান, সেই পদের আরও দুজন প্রার্থী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।
এদিকে, আব্দুস সামাদ মুন্সি তার প্রতিপক্ষ শামছুল হক (শামছুল হক মেম্বার) এবং কামাল হোসেনের করা অভিযোগের জবাব দেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মুন্সি আওয়ামী লীগ সরকারের এমপির সঙ্গে আঁতাত করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন। এই অভিযোগকে তিনি দুঃখজনক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ব্যবসার বাইরে তার কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। আব্দুস সামাদ মুন্সি আরও বলেন, তার ভাই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, কিন্তু তার ভাইয়ের রাজনীতির দায় তার উপর চাপানো যুক্তিযুক্ত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সামাদ মুন্সি প্রতিপক্ষ শামছুল হক মেম্বারের বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, শামছুল হক মেম্বার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, এমনকি ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা গেছে। শামছুল হক মেম্বার ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং ২০১৮ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও সামাদ মুন্সি শামছুল হক মেম্বারের বিরুদ্ধে কয়লা চুরি, মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ, এবং দলের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ক্রাশার মেশিন বসানোর মতো নানা অভিযোগ করেন।
আব্দুস সামাদ মুন্সি তার লিখিত বক্তব্যের শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে শামছুল হক মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Comments