কাশিয়ানীতে ‘অবৈধ ক্লিনিকে’ অস্ত্রোপচারে প্রসূতির মৃত্যু, আড়াই লাখ টাকায় রফাদফা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া বাজারে অনুমোদনহীন নিউ পপুলার ক্লিনিকে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে ফরিদা বেগম (৩০) নামে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও্ই প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে ক্লিনিকের সামনে গেলে পালিয়ে যায় ক্লিনিকের কর্মচারীরা। পরে নিহতের পরিবারকে আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।
স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের ভুল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ফরিদা বেগমের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফরিদা বেগম উপজেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের মাঝকান্দি গ্রামের ইমরান হোসেনের স্ত্রী।
নিহতের চাচাতো ভাই মনির হোসেন জানান, সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে প্রসব বেদনা উঠলে ফরিদা বেগমকে নিউ পপুলার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বেলা ১১টায় ডা. ফজলুর রহমান আকবার আলীর তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর থেকে প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিন রাত ১১টায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। তবে নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছে।
এদিকে, বুধবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ ও নবজাতককে নিয়ে স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে উপস্থিত হলে গেটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায় ক্লিনিকের কর্মচারীরা। পরে নিহতের পরিবারকে গোপনে আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানান নিহতের এক স্বজন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, "এর আগে ক্লিনিকটি 'ইমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার' নামে পরিচালিত হতো। জেলা সিভিল সার্জন তা বন্ধ করে দেন। এরপর নাম পরিবর্তন করে 'নিউ পপুলার ক্লিনিক' নামে পরিচালিত হচ্ছে, যার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই।"
এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর আগে ওই বাজারে 'ইমা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার' নামে একটি প্রতিষ্ঠান আমরা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।"
Comments