শেখ হাসিনা জীবিত থাকাকালীন নাশকতার চেষ্টা থামবে না: তথ্য উপদেষ্টা
পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির গভীর চক্রান্ত চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা কেবল ডিসেম্বর মাসকেন্দ্রিক নয়; বরং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন এই অপচেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সরকার কঠোর হাতে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন এবং এতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, যা তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। শ্রমিকদের এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি কমিশন গঠন করেছে। নিয়মানুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর মজুরি পর্যালোচনা হয়ে থাকে এবং সে হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ সালে নতুন কমিশন হওয়ার কথা ছিল না। তবুও শ্রমিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির যৌক্তিক সমাধান হওয়ার কথা।
আন্দোলনে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংস ও ধ্বংসাত্মক আচরণ কোনো প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে সুনির্দিষ্ট ইন্ধন রয়েছে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে বড় কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করে সরকার। তবে দলটির কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রয়ে গেছে, যা ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানো হতে পারে। ডিসেম্বরের সঙ্গে এই অস্থিরতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত নন বলে জানান, তবে যতদিন শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন, ততদিন দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলতেই থাকবে।
শ্রমিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো তরুণদের অংশগ্রহণ এবং সরকারের কৌশল নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে কোনো আন্দোলন দমন করতে চায় না। এই তরুণদের অনেকেই রাষ্ট্রের নাগরিক, তাই সরকার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সরকার তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে স্বেচ্ছায় আসুন কিংবা তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, সরকারের লক্ষ্য একই। তবে ট্রাভেল পাস ইস্যু বা পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনই কোনো আগাম সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি তিনি। সঠিক পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রচলিত আইন মেনে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। বিগত সরকারের আমলে যেভাবে রাজনৈতিক আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার করা হতো, বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে চায়। সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করে জননিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
Comments