গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ১৪ শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য তুলে ধরে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির মতে, অব্যাহত হামলার পাশাপাশি আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটে গাজার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় প্রয়োজন। উপত্যকার কোনো হাসপাতালেই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু নেই। এ ছাড়া প্রায় ১৪ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি বলেছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। গাজার ধ্বংসস্তূপের আড়ালে যেন ন্যায়বিচারের দাবি হারিয়ে না যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যামনেস্টির বক্তব্য অনুযায়ী, গাজার পুনর্গঠন হতে হবে আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে। শুধু অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ নয়, ভুক্তভোগীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে বিশ্বনেতারা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত ও আদেশ মেনে চলতে ইসরায়েলের ওপর যথেষ্ট চাপও সৃষ্টি করা হয়নি।
অ্যামনেস্টির আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহির অভাব এবং কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ফিলিস্তিনিদের ওপর আরও গুরুতর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি গাজার পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সূত্র: আল-জাজিরা
Comments