মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: ১৫ দাতার ১৮ হাজার কোটি টাকা অনুদান, শীর্ষে ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির শীর্ষ ১৫ দাতা প্রায় ১৫০ কোটি ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অনুদান দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত বুধবার পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ বিভিন্ন বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দিয়েছেন ওই দাতারা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার দাবিতে সোচ্চার 'সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি' (পিএসি) গুলোর পেছনে এই অর্থ ঢালা হচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং এক্সএআইয়ের মালিক ইলন মাস্ক একাই ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তাঁর এই অনুদানের বড় অংশই—২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার—প্রদান করা হয়েছে গত ১ জুলাইয়ের পর। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'ওপেনসিক্রেটস'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ব্যয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর থেকে ব্যক্তিগতভাবে এটিই সর্বোচ্চ অনুদান। মাস্কের অনুদানের সিংহভাগই গেছে রিপাবলিকানপন্থী 'আমেরিকা পিএসি' এবং 'সিনেট লিডারশিপ ফান্ড'-এর সুপার পিএসিতে।
পরামর্শক সংস্থা 'ইস্যু ওয়ান'-এর 'মানি ইন পলিটিক্স রিফর্ম' বিভাগের পরিচালক মাইকেল বেকেল এএফপিকে বলেন, 'আমরা মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।'
প্রযুক্তি ও ক্রিপ্টো খাতের আধিপত্য শীর্ষ ১৫ দাতার মধ্যে পাঁচজনই প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে যুক্ত, বিশেষ করে এআই ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের খাতের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে এবং অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতেই এই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতিবিদদের নির্বাচনী তহবিলে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিচ্ছে।
মার্ক আন্দ্রেসেন ও বেনজামিন হোরোভিৎস: এই দুই ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে এআইপন্থী সুপার পিএসি 'লিডিং দ্য ফিউচার'-এ ৫ কোটি ডলার এবং ক্রিপ্টো বিষয়ক 'ফেয়ারশেক'-এ ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার দিয়েছেন। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'মাগা ইনকরপোরেটেড'-এও তাঁরা অনুদান দিয়েছেন।
ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানসমূহ: ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ 'কয়েনবেস' ও এর প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান আর্মস্ট্রং প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং 'রিপল ল্যাবস' ও এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ক্রিস লারসেন ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
'ডার্ক মানি' বা গোপন অনুদান: চলতি নির্বাচনী চক্রে শীর্ষ ১৫ দাতার তালিকায় চারটি অলাভজনক সংস্থা বা 'ডার্ক মানি' গোষ্ঠীও রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরিচয় গোপন রাখার অধিকার থাকা এই গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনী প্রচারে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। 'ক্যাম্পেইন লিগ্যাল সেন্টারের' জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা শ্যানা পোর্টস একে 'উদ্বেগজনক প্রবণতা' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের পেছনে কারা অর্থায়ন করছে তা জানার অধিকার ভোটারদের রয়েছে। রিপাবলিকানপন্থি 'ওয়ান নেশন' ও 'আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক' এবং ডেমোক্র্যাটপন্থি 'হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড' ও 'মেজরিটি ফরোয়ার্ড' এই গোপন অনুদান প্রদানে এগিয়ে রয়েছে।
প্রথাগত ও দীর্ঘদিনের বড় দাতারাও এবারের নির্বাচনে অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। এর মধ্যে ধনকুবের দম্পতি এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলেইন রিপাবলিকানদের সমর্থনে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের দাতা জর্জ সরোস অন্তত ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রদান করেছেন। এ ছাড়া জেফ ইয়াস ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার, মিরিয়াম অ্যাডেলসন ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং নিউইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ৫ কোটি ২৬ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
Comments