হুথি যুদ্ধক্ষমতার বিকাশ: সৌদি আরব কি তাল মেলাতে পারবে?
ইয়েমেনে ইরান-নকশার উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ নিজেরাই তৈরির চেষ্টা করছে হুথিরা। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (CAR) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে পাঠানো চালানে খেইবার শেখান ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল ও উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
এটি ইঙ্গিত দেয়, হুথিরা শুধু বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে ইয়েমেনেই কিছু যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে। তবে এই প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ইরানের বাইরে সরবরাহ নেটওয়ার্ক
বিশ্লেষকদের মতে,চীনা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহ হুথিদের ইরাননির্ভরতা কিছুটা কমাতে পারে। তবে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ গাইডেন্স সিস্টেম ও অন্যান্য সংবেদনশীল উপাদানের জন্য তাদের এখনো ইরানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে চীনভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুথিদের অস্ত্র তৈরির উপকরণ ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে CAR-এর নতুন অনুসন্ধান চীনা সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা নির্দিষ্ট হামলার সঙ্গে এসব যন্ত্রাংশের সম্পর্ক প্রমাণ করে না।
আরও জটিল হচ্ছে হুথিদের হামলার কৌশল
হুথিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র,ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন সমন্বিতভাবে ব্যবহারের কৌশলও উন্নত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ক্ষেত্রে একাধিক ধরনের অস্ত্র ব্যবহার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা ড্রোনের সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের আক্রমণকে আরও কার্যকর করতে পারে।
হুথিদের উদ্দেশ্য শুধু সৌদি সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করা নয়;বরং বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের নৌপথে ঝুঁকি বাড়িয়ে রিয়াদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
সৌদি আরবের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
সৌদি আরবের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো,প্রতিটি হামলা ঠেকানোর পাশাপাশি হুথিদের অস্ত্রভান্ডার পুনর্গঠনের সক্ষমতাও সীমিত করা। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে বিপুল অর্থ ও সীমিতসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে,মোবাইল লঞ্চার,গোপন অস্ত্রাগার ও ছড়িয়ে থাকা উৎপাদনকেন্দ্র ধ্বংস করা কঠিন।
মূল চ্যালেঞ্জ হলো-হুথিদের শুধু হামলা প্রতিহত করা নয়,বরং তাদের অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কমানো। ইরানের বাইরে সরবরাহ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলে সৌদি আরবের জন্য এই কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
Comments