জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও আবাসন সংকট: ইউরোপের দেশে দেশে অসন্তোষ
শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা, আকাশচুম্বী আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার সামগ্রিক খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ ও তরুণেরা। কোথাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রূপ নিয়েছে শ্রমিক ও জনতা্র গণবিক্ষোভে, আবার কোথাও তা রূপ নিচ্ছে রাজনৈতিক সংকটে।
ফ্রান্সে দীর্ঘ সময় ক্লাস, শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং অস্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরবর্তীতে এর সঙ্গে যুক্ত হয় জ্বালানিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ। ইরানের মার্কিন হামলাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মানুষ আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন 'সিজিটি' এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে দ্রব্যমূল্য কমানো ও মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ৩ হাজার খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তির ফি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করলেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্পেন ও পর্তুগালে আবাসন সংকট: স্পেনে মূলত বাড়ি ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। ৮৭ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার বাড়িভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে তাঁকে উচ্ছেদ করার পর এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের চাপে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আবাসন আইন পাসের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, পর্তুগালের লিসবনেও আবাসন সংকটের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। দেশটিতে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাড়ির দাম ১২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এছাড়া আলবেনিয়ায় দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং একটি বিতর্কিত বিলাসবহুল উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামেও একই ধরনের দাবিতে গত শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
Comments