এমপি নজরুলের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় বাদীর আপস মীমাংসা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস মীমাংসা করেছেন মামলার বাদী ও নিহত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। কারাগারে থাকা এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেলে তার কোনো আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে আসামিদের পক্ষে হলফনামা দাখিল করেন মরিয়মের বাবা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত সোমবার দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন গাজী নজরুল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হতো। এছাড়া তদন্তে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং রুম থেকে কিছু চিরকুট জব্দ করা হয়।
ঘটনার পরদিনই নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এমপি নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একদিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাও বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
Comments