এআই ব্যবহারে পরিমিত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
জনকল্যাণে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈবপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছ না হয়, সে বিষয়ে গভীর সচেতনতা অবলম্বনের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভাকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। তাই মানুষের সৃজনশীলতা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য এআই-এর ব্যবহার সবসময় পরিমিত মাত্রায় রাখা উচিত। জনকল্যাণে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর যথেচ্ছ অপব্যবহার রোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
কুয়েটের উপাচার্য এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। আলোচনাপ্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল রাজধানীভিত্তিক করে রাখলে চলবে না, বরং এটিকে সারাদেশে বিকেন্দ্রীকরণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির পাশাপাশি ন্যানোটেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎশেষের দিকে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বা আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি সানন্দে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিব ও সামরিক সচিবসহ কুয়েটের বেশ কয়েকজন অধ্যাপক উপস্থিত ছিলেন।
Comments