নিউইয়র্কে শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক: পাকিস্তান সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সাপেক্ষে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
এটি দুই নেতার মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পৃথক বিবৃতিতে বৈঠকের ইতিবাচক আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'এশিয়া ওয়ান'-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের বর্তমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। এ সময় সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জানতে চান—তিনি কবে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা একটি দিনক্ষণ ঠিক করব। আমরা উপযুক্ত সময়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।'
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'আনাদোলু এজেন্সি'সহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সঙ্গে 'পারস্পরিকভাবে লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার পাকিস্তানের দৃঢ় সংকল্পের' কথা জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে আন্তরিক বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতা। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে উভয় দেশের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের সরকারি বার্তা সংস্থা 'বাসস'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
Comments