সিএনএনের দৃষ্টিতে জাতিসংঘে ট্রাম্প যেসব মিথ্যা বলেছেন
১. "আমি আটটি যুদ্ধ মীমাংসা করেছি"
ট্রাম্প দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধ শেষ করেছেন। তিনি কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড, কসোভো–সার্বিয়া, রুয়ান্ডা–ডিআর কঙ্গো, ভারত–পাকিস্তান, আর্মেনিয়া–আজারবাইজান এবং গাজা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন।
সিএনএন-এর যাচাই অনুযায়ী, এই "আটটি যুদ্ধ" দাবি অতিরঞ্জিত। ট্রাম্পের তালিকায় এমন দুটি পরিস্থিতিও রয়েছে, যেগুলো তাঁর বর্তমান মেয়াদে প্রকৃত যুদ্ধ হিসেবে চলছিল না। সিএনএন আরও উল্লেখ করে যে কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি বা শান্তি-চুক্তির পেছনে একাধিক দেশ ও পক্ষের ভূমিকা ছিল; সেগুলোকে এককভাবে নিজের কৃতিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র দেয় না।
২. যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এত বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্র রয়েছে যে সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা কল্পনাও করা যায় না এবং যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অস্ত্র তৈরি করছে।
অন্যান্য সাম্প্রতিক ফ্যাক্ট-চেক ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থার মজুত নিয়ে মার্কিন ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কথা প্রকাশিত হয়েছে।
৩. যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা মিলে বিশ্বের ৬০% তেল
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার তেল একত্র করলে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি তেল তাদের হাতে রয়েছে।
ফ্যাক্ট-চেক অনুযায়ী সংখ্যাটি মেলে না। ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেলের মজুত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেটি যোগ করলেও বিশ্বের মোট প্রমাণিত মজুতের অংশ প্রায় ২২ শতাংশের কাছাকাছি, ৬০ শতাংশ নয়।
৪. মাদকবাহী নৌযান ধ্বংস এবং "৯৭% মাদক"
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্টেলগুলোর মাদকবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে বহু হামলা চালিয়েছে এবং সমুদ্রপথে আসা ৯৭% মাদক ধ্বংস করছে।
ফ্যাক্ট-চেকের মূল সমস্যা হলো—সমুদ্রে মোট কত মাদক পাঠানো হচ্ছে তার নির্ভুল পরিমাণ জানা যায় না। ফলে আটক বা ধ্বংস করা মাদকের পরিমাণকে মোট পাচারের ৯৭ শতাংশ বলে নিশ্চিতভাবে হিসাব করা সম্ভব নয়।
ট্রাম্প ভাষণে বেশ কিছু বাস্তব ঘটনা ও অর্জনের উল্লেখ করলেও সেগুলোর সংখ্যা, পরিমাণ বা কারণ-ফল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক দাবি বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মেলে না।
Comments