সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরতের কার্যক্রম শুরু:মিলছে বিশেষ ছাড়ও
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক'-এর আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করা গ্রাহকদের একটি অংশ আজ থেকে সহজে তাদের আমানতের অর্থ তুলতে পারছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টিমুখ করানো হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে গ্রাহকদের স্বস্তিদায়ক উপস্থিতি দেখা গেছে। শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেই টাকা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই ব্যাংকের কাকরাইল (সাবেক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক) শাখায় ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করা ১১ জন গ্রাহকের টাকা তোলার কথা থাকলেও উপস্থিত হন মাত্র একজন। বাকিদের ব্যাংক থেকে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়। উপস্থিত গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ ও মিষ্টিমুখ করানো হয়। এই শাখায় গ্রাহকদের কোনো বড় ভিড় লক্ষ করা যায়নি। আবেদনকারী ১৭ জনের মধ্যে মাত্র দুজন উপস্থিত হন এবং তাদের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে দেওয়া হয়।
নয়াপল্টন শাখায় (সাবেক গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) গত ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করা শারমিন জাহান নামের এক গ্রাহক জানান, তার সন্তানের অসুস্থতার কারণে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন ছিল। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপককে বিষয়টি জানানোর পর তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ওই টাকা উত্তোলনের সুযোগ পান। তবে একই শাখায় ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করা আরেক গ্রাহক দিদারকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আরও দুই দিন অপেক্ষা করার কথা জানানো হয়েছে। অন্যান্য গ্রাহকদের টাকা তুলতে দেখে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, টাকা পরিশোধের আগে গ্রাহকের কোনো খেলাপি ঋণ রয়েছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের কোথাও সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের খেলাপি ঋণ আছে কি না, তা দেখার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। এনআইডি নম্বর দিয়ে সিস্টেমে এটি যাচাই করা হচ্ছে। কোনো গ্রাহক খেলাপি না থাকলে তিনি নিয়ম অনুযায়ী সহজেই টাকা তুলতে পারছেন। পুরো বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নয়াপল্টন শাখার ব্যবস্থাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, গ্রাহকদের চাহিদার ভিত্তিতে পর্যাপ্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ফলে কোনো সংকট নেই। তবে ১ সেপ্টেম্বরের আবেদনকারীদের আজ টাকা দেওয়া হলেও, পরবর্তী তারিখের আবেদনকারীদের নিয়ম অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে কারও পরিবারে অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজন থাকলে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
একই কথা জানান বিজয়নগর শাখার (সাবেক ইউনিয়ন ব্যাংক) ব্যবস্থাপক চৌধুরী এস এম আতিকুর রহমান হায়দার। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের আমানতকারীরা চাইলে টাকা ব্যাংকে রেখে দিতে পারেন, আবার প্রয়োজন হলে তা উত্তোলন বা আরটিজিএসের মাধ্যমে স্থানান্তরের পূর্ণ ব্যবস্থাও রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় এবং মাত্র ছয় দিনে মোট ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গঠিত হয়েছে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক'।
Comments