জ্বালানি সংকটের মাঝেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রপ্তানি খাত, আয় ৭.৫০ বিলিয়ন ডলার
নতুন বিনিয়োগ সংকট ও জ্বালানি ঘাটতিতে উৎপাদন খাতের করুণ দশার মাঝেই দেশের রপ্তানি আয়ে স্বস্তির খবর এসেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।
এই আয়ের সিংহভাগই এসেছে দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাক থেকে। জুলাই মাসে এই খাতে রপ্তানি কিছুটা কমলেও আগস্টে তা প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগস্টে পোশাক খাতের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় সার্বিক রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক নীতির কারণে মার্কিন বাজারে একধরনের মন্দাভাব থাকলেও বর্তমানে তা কাটতে শুরু করেছে। মার্কিন বাজারে শুল্ক নিয়ে আগের সেই অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার আবার বাড়তির দিকে রয়েছে। নতুন বিনিয়োগ না হওয়া এবং তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনে থাকা কারখানাগুলো এখনো বেহাল দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, ভালোমতো শিল্প চালাতে জ্বালানির বিকল্প নেই। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্যোক্তারা যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী ন্যূনতম উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেন, সে জন্য দ্রুত কার্যকর উপায় বের করার তাগিদ দেন তিনি।
এদিকে অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ জানান, শুল্ক সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কাটায় মার্কিন বাজারে অর্ডার কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চলতি অর্থবছরের আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক চড়া মূল্যস্ফীতি এবং চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট দেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
টেকসই অর্থনীতির স্বার্থে একক বা তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদরা।
Comments