জুলাইযোদ্ধা আয়াসের ওপর হামলা: স্বামী মোমেন মেহেদীসহ কারাগারে শান্তা ফারজানা
রাজধানীর শাহবাগে 'জুলাইযোদ্ধা' ও এসডিএএফের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজনের ওপর হামলার অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সহযোগী সংগঠনের নেত্রী শান্তা ফারজানা ও তাঁর স্বামী মোমেন মেহেদীসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আজ বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন—সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নুরজাহান নীরা (৪০), যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান (৪৭), সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল (৪০) এবং হরি সরকার (৩৬)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত চার আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদীর পক্ষে একাধিক আইনজীবী থাকায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) সিদ্ধান্তের পর তাঁদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো রিমান্ড আবেদন না থাকায় তাঁদের মূল এজলাসে তোলা হয়নি।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে বাবুল সরদার নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় এই মামলাটি করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গতকাল মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে একটি মিছিল বের করেন। এ সময় উপস্থিত জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং এসডিএএফের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ অন্যরা এর প্রতিবাদ জানালে আসামিরা দেশি ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, এসএস পাইপ ও চেয়ার নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় ১ নম্বর আসামি শান্তা ফারজানা হত্যার উদ্দেশ্যে এসএস পাইপ দিয়ে আঘাত করে আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের মাথা, মুখমণ্ডল ও দুই হাত রক্তাক্ত জখম করেন। এই হামলায় জুলাইযোদ্ধা মহসিন, আশরাফুল, তাওহীদ এবং মামলার বাদী বাবুল সরদার নিজেও আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত আয়াসকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, আসামি শান্তা ফারজানা ও মোমেন মেহেদী এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে শেখ হাসিনাকে 'বৈধ' এবং তারেক রহমানকে 'অবৈধ' আখ্যা দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি তাঁরা জুলাই আন্দোলনকে 'জঙ্গি আন্দোলন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। এ ছাড়া তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।
Comments