শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে ৬১ জন নিহতের তথ্য মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তাঁর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া তালিকায় এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে। অবশিষ্ট ৩ জনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আজ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি বলেন:
"আমরা প্রতিবেদনের খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রকৃত কোনো অপরাধী যেন বাদ না যায় এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। আশা করছি, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করা হবে।"
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে নিহতের সংখ্যার অনেক তথ্যই নিখোঁজ রয়েছে। যেহেতু তৎকালীন ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয়ভাবে শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুম করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তাই তদন্ত প্রতিবেদনে অনেকের তথ্য উঠে আসেনি। এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে যে ৬১ জন নিহতের অকাউন্টেবল তথ্য সংরক্ষিত ছিল, প্রতিবেদনে তাদের কথাই এসেছে।"
বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহারসহ দলটির ১০-১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। এই মামলায় প্রধান প্রধান আসামিরা হলেন, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন পুলিশ ও র্যাব প্রধান এবং ডিএমপি কমিশনার। একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনালে এই তদন্তের আবেদন জানায় হেফাজতে ইসলাম, যার আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
Comments