দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৭২৯
দেশে সাড়ে তিন মাস ধরে হাম ও এর তীব্র উপসর্গের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মহামারি রূপ নেওয়া এই ভাইরাসের থাবায় মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫টি শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে হাম ও এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৯ জনে।
একই সময়ে নতুন করে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ও উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ১০৭টি শিশুর শরীরে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক জরুরি হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত সাড়ে তিন মাস ধরে দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ৩ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার ফলে এই স্বল্প সময়ে ৭২৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৯৩ জন শিশু। ল্যাব পরীক্ষা ছাড়াও হামের তীব্র ও চাক্ষুষ উপসর্গ (যেমন: তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া জটিলতা) নিয়ে মারা গেছে বাকি ৬৩৬টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ১০৭ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ ও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দেশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ও উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত শিশুদের যথাসময়ে এমআর টিকা না দেওয়া কিংবা পুষ্টিহীনতার কারণে হামের তীব্রতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বর্তমানের এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আক্রান্ত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান ও সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখামাত্রই কোনো ধরনের অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
Comments