জুলাই হামলায় জড়িত: এক শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর, ৪৩ ছাত্রের সাজা পুনর্বিবেচনা
জুলাই গণআন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া একই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও ৯ জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে পদাবনতিসহ ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) ভোরে সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিন্ডিকেট সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনের সময় হামলায় সরাসরি জড়িত থাকা এবং মদদ দেওয়ার অভিযোগে মোট ১৯ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে-এক শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। ৯ জন শিক্ষক এবং ১ জন কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে পদাবনতি ও বেতন অবনমনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২ জন শিক্ষককে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৭ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ১৮৯ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছিল তৎকালীন প্রশাসন। তবে সাজাপ্রাপ্তদের আপিল আবেদনের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট ৪৩ জনের সাজা পুনর্বিবেচনা করেছে।
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, আগে চিরতরে বহিষ্কার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ৫ জনকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মধ্যে ৮ জনের সাজা কমিয়ে ২ বছর এবং ৫ জনের সাজা ১ বছর করা হয়েছে। ২ বছরের বহিষ্কারাদেশ: এই ক্যাটাগরিতে থাকা ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জনকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সনদ বাতিল হওয়া ১২ জনের মধ্যে ৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মধ্যে ৪ জনের সনদ বাতিলের মেয়াদ কমিয়ে ১ বছর করা হয়েছে এবং ৩ জনের ক্ষেত্রে ২ বছরের মেয়াদ বহাল রাখা হয়েছে। সাময়িক বহিষ্কার হওয়া ২ জনের মধ্যে ১ জনের শাস্তি বহাল আছে এবং অন্যজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যাদের সাজা পুনর্বিবেচনা করা হয়নি, তাদের আগের শাস্তি বহাল থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত চেতনা সমুন্নত রাখতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
Comments