মেট্রোরেল সম্প্রসারণে সরকারের মহাপরিকল্পনা: এডিপিতে বিশাল বরাদ্দ
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যানজট নিরসন ও নগরবাসীকে দ্রুত সেবা দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেট্রোরেলের চলমান প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) অনুমোদিত নতুন এডিপিতে এমআরটি লাইন-৬, দেশের প্রথম পাতাল রেল (এমআরটি লাইন-১) এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে বিপুল অংকের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজধানী ছাড়াও অন্যান্য মহানগরে মেট্রোরেল ও বৃত্তাকার কমিউটার লাইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু হওয়া দেশের প্রথম মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) এখন নগরবাসীর যাতায়াতের প্রধান ভরসা। বর্তমানে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত লাইন সম্প্রসারণের কাজ পুরোদমে চলছে। এই প্রকল্পে নতুন বরাদ্দ ১,৯০০ কোটি টাকা (চলতি সংশোধিত এডিপিতে ছিল ১,০২৩ কোটি টাকা)। আগামী অর্থবছরের মধ্যে কমলাপুর অংশ পর্যন্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৭৫৫ কোটি টাকা সাশ্রয় করায় বর্তমান মোট ব্যয় ৩২,৭১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ২০,১৯৬ কোটি টাকা।
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পাতাল রেল প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে সরকার। এতে বরাদ্দ বরাদ্দ: ৭,৩৫০ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরে যা ছিল মাত্র ৮০১ কোটি টাকা)। বিমানবন্দর সড়ক ও প্রগতি সরণি অংশে আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি, অবশিষ্ট ৮টি পাতাল স্টেশনের পরিষেবা (ইউটিলিটি) স্থানান্তর এবং পূর্বাচল রুটের ফ্লাইওভারের (ভায়াডাক্ট) পাইলিং কাজ শেষ করা। ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য। মোট ব্যয় ৫৩,৯৭৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে জাইকা দিচ্ছে ৪০,০০০ কোটি টাকা। চালুর পর এই রুটে প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।
ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের যোগাযোগ সহজ করতে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত রুট নিয়ে তৈরি হচ্ছে এমআরটি লাইন-৫ (নর্দার্ন রুট)। এতে বরাদ্দ: ৩,৯১০ কোটি টাকা (চলতি অর্থবছরে ছিল মাত্র ৮৬৩ কোটি টাকা)। হেমায়েতপুরে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ করা, কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র চূড়ান্ত করা এবং সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) অনুমোদন করা।
Comments