শান্তি চাইলে ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ট্রাম্পের
ইরান যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে সংকট চলমান আছে। কয়েক দফা গুলি চালিয়ে একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে ১০ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছিল যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে, তার মধ্যে একটি ছিল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দাবি।
ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক আলোচনাতেও যুদ্ধে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উঠে আসে। অনেক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য, বিশেষ করে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার ক্ষেত্রে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ব্যাপক।
যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমই জানিয়েছে যে বহু বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ৪০টি স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মোট ধ্বংসযজ্ঞের "একটি অংশমাত্র" হতে পারে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত: ৭৬৩টি স্কুল ও ৩১৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি ছিল মিনাবের একটি স্কুলে, যেখানে প্রায় ১৭৫ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল ছাত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, পুরনো তথ্য ব্যবহারের কারণে তাদের বাহিনী এই হামলার জন্য দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে না। অন্যদিকে ইসরায়েল বলেছে, তারা "যুদ্ধের আইনের" মধ্যে থেকেই কাজ করে। কিন্তু গাজা ও লেবাননে তাদের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিলে এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ এমনকি আমেরিকানরাও বলছেন, এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।
যদিও কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ওপর মানবিক আইনের নিয়ম মানার কঠোর ব্যবস্থা আছে, তথাপি তাদের যুদ্ধমন্ত্রী এসব নিয়মকে "বোকামি" বলে উপেক্ষা করেছেন। ফলে এমন পরিস্থিতিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতা ঘটার সম্ভাবনাই বেশি।
যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতা চায়, তাহলে ইরানের ক্ষতিপূরণের দাবিকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কথা বলা হচ্ছে। যদিও সঠিক হিসাব নির্ধারণে সময় লাগবে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে অঙ্গীকার করা, কারণ এই সংঘাতে তারা আক্রমণকারী এবং বহু ক্ষেত্রে বেসামরিক জীবনের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন মানবে, এমন আশা করা কঠিন। হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যে বিপুল অর্থ সামরিক সহায়তা হিসেবে দেয়, তার একটা অংশ ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠনে ব্যয় করতে পারে।
Comments