সমঝোতার দোরগোড়ায় ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র: আরাগচি
দীর্ঘ ৪৭ বছরের বৈরিতা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার 'একেবারে কাছাকাছি' পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার এই চাঞ্চল্যকর নেপথ্য তথ্য সামনে আসে।
আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একটি সম্ভাব্য 'সমঝোতা স্মারক' চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি ছিলেন। গত ৪৭ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে হওয়া সবথেকে নিবিড় ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
তবে শেষ মুহূর্তে চুক্তিটি আলোর মুখ না দেখার পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন তিনি। আলোচনার শেষ পর্যায়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন এবং অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করা হয়। বারবার আলোচনার শর্ত পরিবর্তন করায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। আরাগচি আক্ষেপ করে বলেন, "ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি। সদিচ্ছা সদিচ্ছাই জন্ম দেয়, আর শত্রুতা কেবল শত্রুতাই সৃষ্টি করে।"
চুক্তি ব্যর্থ হওয়া এবং বর্তমান উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১২ এপ্রিল) এক পোস্টে তিনি জানান:
"যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব ত্যাগ করে এবং ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকারকে সম্মান জানায়, তবে দুই দেশের মধ্যে সম্মানজনক চুক্তি এখনো সম্ভব।"
তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদলকে তাদের প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানান।
Comments