কেন ঝুলে আছে ঢাকা-৮ আসনের ফল? ভেতরে কী চলছে
কিছু আসনে ইঁদুর-বিড়াল খেলা চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন? সেখানে কি হচ্ছে? এই বিষয়গুলো কিন্তু সুস্থ ধারা রাজনীতির পরিচয় বহন করে না। এগুলো অসুস্থ ধারার রাজনীতি। তিনি বলেন, সরকার ও আশ্বস্ত নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে তারা ১৩ তারিখের ভেতরে ফলাফল ঘোষণা করবেন। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। দেখি তারা দেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন ভালো, না দিয়ে থাকলে আমরা সঙ্গত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি সংস্কারের জন্য যে গণভোট ছিল সেই গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট বেশি পড়েছে। এজন্য আমরা দেশবাসীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই। যদিও অফিশিয়ালি এটা ঘোষণা করা হয় নাই। শেষ পর্যন্ত কি হয় সেটা আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি।
আর সরকার গঠনের জন্য যে নির্বাচন হয়েছে সেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল মূলত দুইটা জোটের মাঝেই। আমরা অংশগ্রহণ করেছি। নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে আমরা আমাদের কার্যক্রম চালিয়েছি। আমাদের যারা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারাও তাদের কার্যক্রম চালিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাভাবিক একটা নির্বাচন যখন হবে সবাই জিতবে না। কেউ জিতবে কেউ হারবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে কিছু সংস্কৃতি আছে। আমরা এই সংস্কৃতিকে পাল্টানোর পক্ষে। তবে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। সেই পর্যবেক্ষণগুলো আমরা জাতির সামনে তুলে ধরার পক্ষে। যাতে ভবিষ্যতে অন্যায়ের বা সীমালঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমরা এগুলো কম্পাইল করছি। আমরা আমাদের পরিসরে আবার বসবো। আজকে তো এই পরিসরে আমাদের বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ ছিল না।
জামায়াত আমির অভিযোগ তুলে বলেন, এখন পর্যন্ত বেশ কিছু আসনে আমাদের জানামত আমরা এগিয়ে আছি এবং গণনাও কমপ্লিট। কিন্তু স্থানীয়ভাবে যারা রিটার্নিং অফিসার আছেন তারা ঘোষণা দিচ্ছেন না। ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা বুঝতে পারছি না এটা কেন? মাঝখানে আবার ওয়েবসাইটে হঠাৎ করে দেখা গেল যে কে কতটা আসন পেয়েছে সেটা দেওয়া হলো। মাঝখান থেকে উদাও হয়ে গেল। আবার নাই। আমাদের লোকদের বসিয়ে রাখা হলো দীর্ঘ সময়। এই একটু আগে উনারা একদম প্রথম পর্যায়ে ১০টা, ১২টা কেন্দ্রের যে ফলাফল সেগুলো ঘোষণা করা শুরু করেছে। সেটা আবার বেসরকারি। তো আমরা সব মিলায়ে এখন আপনাদের সামনে পূর্ণাঙ্গ কোনো বক্তব্য দিতে পারছি না বলে আমরা দুঃখিত। আমরা দেবো ইনশাআল্লাহ। আমরা আবার বসবো আমাদের মধ্যে। আমরা এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করবো। আমাদেরও কোনো ত্রুটি ঘাটতি থাকে সেটাও আমরা দেখবো। আবার যদি সামগ্রিক কোনো বড় ত্রুটিবিচ্চ্যুতি হয়ে থাকে সেটাও আমরা আনবো।
তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছি ছোটোখাটো কোনো বিষয় নিয়ে আমরা টানাটানি করবো না। এবং পুরানা রাজনীতির সংস্কৃতিতে আমরা ফিরে যেতে চাই না। আমরা ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয় তাহলে যারা রাজনীতি করবেন তাদের এ কথা মেনে নিতে হবে। যে পাশ করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো নির্বাচনও হয় না, কোনো রাজনীতি হয় না। আপনি যাবেন মানুষের কাছে আপনার বক্তব্য নিয়ে। মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, যতটুকু গ্রহণ করবে তাকে আপনার অভিনন্দন জানানো উচিত।
আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, আশা করছি যে খুব দ্রুতই সরকার তার অফিশিয়াল রেজাল্ট প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গি জাতিকেও জানিয়ে দেব। আপনাদেরও জানিয়ে দেব। তবে আপনারা আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হবে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি, কল্যাণ ধারার রাজনীতি, মানুষের জন্য রাজনীতি, দলের জন্য রাজনীতি নয়। আমরা বিরোধিতার জন্য রাজনীতি করবো না।
এ সময়ের ভেতরে সরকারও আশ্বস্ত নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে, যে তারা ১৩ ফেব্রুয়ারি ভেতরে রেজাল্ট দেবেন। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তারা দেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন ভালো না দিয়ে থাকলে আমরা সঙ্গত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
কতটা আসনে জামায়াত জয়ী হতে পারে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত বিজয়ী এটার কোনো সঠিক উত্তর নাই আমাদের কাছে। কারণ বেশ কিছু আসন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত আমাদের বুথ ফেরত যে শিট এসেছে আমাদের কাছে সাইন করা সিট সেখানে আমরা দেখতেছি যে আমরা এগিয়ে আছি। কিন্তু এইটা নিয়েও ওখানে লোকালি বিভিন্ন তালবাহানা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে পোস্টাল ব্যালট মিলাইয়া একটু দেখতে হবে। আর একটু এই আছে ওই আছে। এই ওইটা কি? এটা আমরা বুঝতে পারছি না সব জায়গায়। ওই এই ওইর বাইরে এসে আমাদেরকে একটা ক্লিয়ার মেসেজ দিলেই আমরা তখন বলতে পারবো যে আমাদের অবস্থানটা কি।
আপনারা কোনো কারচুপির আশঙ্কা করছেন বা সন্দেহ করছেন কিনা ইঞ্জিনিয়ারিং হতে পারে? জানতে চাইলে জামায়াত আমির বলেন, অনেক কিছু তো হয়েছে অনেক কিছু হয়েছে কিন্তু এখনই আমরা এই ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা বলেছি যে সবকিছু ফাইনাল যখন আমাদের হাতে এসে যাবে আমরা বসে সব দিকের তথ্য নিয়ে সব দল যারা আমরা ১১ দলে আছি তাদের নেতৃবৃন্দ আমরা বসবো। বসে সব তথ্য কম্পাইল করে আপনাদের (মিডিয়া) সামনে আমরা আসবো।
জামায়াত আমির বলেন, এখন গণনা করা হচ্ছে। হুট করে আপডেট আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এইটা আসলে কেন? কাকে দায়ী করবো? এটা অবশ্যই কেউ না কেউ এটার জন্য দায়ী হবে। এইজন্য আমাদের এগুলো আরো জানতে হবে। চেক করতে হবে। তখনই আপনাদের সামনে কনফার্ম না হয়ে একটা কথা আমি বাতাসে ছেড়ে দিলাম। পরে দায় তো আমার ওপরে আসবে। আমরা ওটা চাচ্ছি না।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আমাদের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
Comments