বিনিয়োগ বাড়লে এডিপি কম হলেও অর্থনীতিতে সমস্যা হতো না : পরিকল্পনা উপদেষ্টা
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, শুধু এডিপির আকার ছোট হওয়ার কারণেই অর্থনীতিতে যে মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি তা নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়া। বিনিয়োগ বাড়লে এডিপি কিছুটা কম হলেও অর্থনীতিতে বড় ধরনের সমস্যা হতো না; বরং কর্মসংস্থান ও উৎপাদন স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, 'এই সময়ে অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক হলো রেমিটেন্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রেমিটেন্সের বড় অংশ গ্রামে যাচ্ছে, ফলে যেসব এলাকায় রেমিটেন্স বেশি সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ, দোকানপাট, সেবা খাত ও ক্ষুদ্র ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এসব এলাকায় দারিদ্র্যের চাপ তুলনামূলকভাবে কম।'
তবে রেমিটেন্সের সুফল সব এলাকায় সমানভাবে পৌঁছাতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'যেসব এলাকায় রেমিটেন্স প্রবাহ নেই, সেখানে উন্নয়ন প্রকল্পের গতি ধীর ছিল এবং নতুন প্রকল্পও তেমন নেওয়া হয়নি। ফলে এসব অঞ্চল তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যুক্ত হয়েছে—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পুরো সময়জুড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি রেখেছে। উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।'
বিনিয়োগের পরিবেশ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, 'যদিও বড় বিনিয়োগ আসা বা না আসা কেবল সুদের হারের ওপর নির্ভর করে না; সেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত নিশ্চয়তার বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। আমাদের করা এক জরিপে দেখা গেছে, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হলো ঋণ পাওয়া এবং স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের অভাব। কম সুদে ঋণ না পেলে তাদের ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।'
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, 'বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে যে, চলতি মূলধনের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে কম সুদের বিশেষ ক্রেডিট লাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যেসব খাতে বেশি সুদ পাওয়া যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সেদিকেই বেশি ঝুঁকেছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রত্যাশিত পরিমাণে ঋণ পাননি।'
ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও নীতি নির্ধারণ বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'সুদের হার যদি আরও আগে এবং ধীরে কমানো হতো, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হতে পারত। আমার ধারণা, অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে না। তবে এটাও সত্য যে বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে তাদের মুদ্রানীতি নির্ধারণে তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে চলছে।'
Comments