বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট মোবাইল সেবা চালু, ইলন মাস্কের উচ্ছ্বাস
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংকের 'স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল' সেবা চালু হওয়ায় গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্পেসএক্সের বাণিজ্যিক বিক্রয় বিভাগের প্রধান স্টেফানি বেডনারেকের করা একটি এক্স (টুইটার) পোস্ট শেয়ার করে ইলন মাস্ক লিখেছেন, 'Starlink connecting Bangladesh!'
এর আগে স্পেসএক্সের নির্বাহী স্টেফানি বেডনারেক তাঁর পোস্টে জানান, স্টারলিংক মোবাইলের মাধ্যমে এখন বাংলাদেশের লাখো মানুষ অতিরিক্ত সংযোগ সুবিধার আওতায় আসছেন। বিশেষ করে যেসব দুর্গম এলাকায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের কোনো কাভারেজ বা সংযোগ নেই, সেখানে এই প্রযুক্তি যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বেডনারেক তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, সেলুলার নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা অঞ্চলগুলোতে স্টারলিংকের এই প্রযুক্তি অতিরিক্ত সংযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও ভ্রমণকারীরা মূল ধারার যোগাযোগের বাইরে থাকলেও সবসময় সংযুক্ত থাকতে পারবেন।
স্টারলিংক জানিয়েছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটর বাংলালিংকের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তির মাধ্যমেই বাংলাদেশে তাদের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা সেলুলার নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও বিভিন্ন অ্যাপে বার্তা পাঠানো, নিজেদের অবস্থান বা লোকেশন শেয়ার করা এবং জরুরি যোগাযোগ রক্ষা করার সুবিধা পাবেন। দক্ষিণ এশিয়ায় এই ধরনের আধুনিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে এটিই প্রথম কোনো উদ্যোগ।
জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক যখন ব্যাহত হয়, তখন গ্রাহকদের যোগাযোগ সচল রাখাই এই সেবার মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে জেলেরূপ, সমুদ্রে কর্মরত মানুষ, ভ্রমণকারী এবং প্রত্যন্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা এই সেবার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের গভীর সমুদ্র এলাকাতেও এই সেবা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো ফোরজি (4G) ফোন এবং বাংলালিংকের সিম থাকলেই ব্যবহারকারীরা প্রচলিত নেটওয়ার্কের সীমানা ছাড়িয়েও প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও লোকেশন সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
Comments