কক্সবাজার ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রুখতে; অপরাধী শনাক্তে এবার বসছে সিসিটিভি ক্যামেরা
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে একের পর এক ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের রক্তক্ষয়ী ঘটনা প্রতিরোধে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও অপরাধ কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে 'পর্যটক এক্সপ্রেস'এর একটি এসি বগিতে বসানো হয়েছে চারটি (সিসিটিভি) ক্যামেরা।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে সব ট্রেনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পর্যটক এক্সপ্রেসের একটি এসি কোচের দুই পাশে দুটি করে মোট চারটি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। কিন্তু ৪০০-৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ট্রেনের মাত্র একটি কোচে ক্যামেরা থাকায় সব ঘটনা পুরোপুরি ধরা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের সময় সরাসরি দৃশ্য ক্যামেরায় না এলেও, লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। ট্রেনের সামনে ও পেছনে কীভাবে ক্যামেরা বসালে পুরো ট্রেনের দৃশ্য কাভার করা যাবে, তা পর্যবেক্ষণ করে শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে প্রকৌশল বিভাগ।
সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চালু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় পাথর ছোঁড়ার ভয়াবহ উপদ্রব। গত ২২ আগস্ট লোহাগাড়ায় ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেসে পাথর ছোঁড়ায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান যাত্রী শাহীন আহমেদ (৩৯)। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ট্রেন থামিয়ে বোয়ালখালীর একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করাতে হয়। এর আগে ২৭ এপ্রিল চকরিয়া এলাকায় পাথর নিক্ষেপে তিন যাত্রী আহত হন, যার মধ্যে একজনের চারটি দাঁত ভেঙে যায়। এর আগে ১৭ জানুয়ারি কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথরের আঘাতে ৯ বছরের এক শিশু রক্তাক্ত হয়।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে ২২৪টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৩টি ঘটনাই ঘটেছে বিরতিহীন ঢাকা-কক্সবাজার রুটের পর্যটক এক্সপ্রেস (২৪ বার) ও কক্সবাজার এক্সপ্রেসে (১৯ বার)।
মহাব্যবস্থাপক (পূর্বাঞ্চল) মো. মামুনুল ইসলাম বলেন, "পরীক্ষামূলকভাবে একটি কোচে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এই পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ট্রেনেও ক্যামেরা বসানো হবে।"
১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়ার অপরাধে সর্বনিম্ন ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এই আইনের প্রয়োগ বাস্তবে নেই বললেই চলে। শত শত পাথর নিক্ষেপের ঘটনার বিপরীতে রেলওয়ে পুলিশ মামলা করেছে মাত্র ১১টি, আর গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৩ জন।
কক্সবাজারের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শিহাব জিসান অনিক বলেন, "পাথরের আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে যাতায়াত করতে হয়। সিসিটিভি বসানো ইতিবাচক, কিন্তু অপরাধীদের ধরে শাস্তি না দিলে এই উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না।"
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে জানান, নতুন রেললাইনে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে চকরিয়া, ডুলহাজারা, রামু ও ইসলামাবাদ এলাকায় ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে। অপরাধীদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোর ও মাদকাসক্তরা।
Comments