দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের 'তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বগুড়ার মম ইন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, বগুড়া জেলার সকল সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রকল্প পরিচালক এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং সমন্বয়কারীরা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে সরকার কাজ করছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ সময় বগুড়াসহ সারা দেশে আন্তর্জাতিক মানের ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, প্রকল্পটি এআইভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম বলেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ২৫ জন করে মোট এক হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোর্সের মেয়াদ দুই মাস। এ সময় ৫০টি ক্লাসের মাধ্যমে মোট ৩০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয়কারী আটজন ফ্রিল্যান্সারকে ল্যাপটপ এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার ২৪ জন ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
Comments