গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার আসনে জয় পেয়েছেন যিনি
দীর্ঘ তিন দশক পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার সব আসনেই বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী একবার জয়ী হলেও, এবারই জেলায় দলটির সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র দীর্ঘদিনের আসন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) থেকে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জিলানী। তিনি ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিন্দু মহাজোটের গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। শেখ হাসিনার পৈত্রিক নিবাস ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ আসনে বিএনপির জয়কে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।
অন্যদিকে গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কে এম বাবর। তিনি পেয়েছেন ৪০ হাজার ৪৮ ভোট। এ আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু, যিনি পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল বিএনপি ও জোটসঙ্গীদের মধ্যে।
ফলাফল ঘোষণার পর জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেন। স্থানীয় নেতারা বলেন, এই ফলাফল দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতিফলন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
Comments