চোখ লাল হয়ে যাওয়া বিপদের কারণ নয় তো?

অনেক সময় দেখা যায় চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যায়। চিকিৎসকদের ভাষায় এটা পিঙ্ক আই, যা কনজাঙ্কটিভাইটিস নামেও পরিচিত। একটি সাধারণ চোখের সমস্যা যা চোখের সাদা অংশে লালচে বা গোলাপী রঙের পরিবর্তন ঘটায়। এটি চোখের চারপাশে রক্ষা করা শ্লেষ্মা স্তরের প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে এবং এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হতে পারে। এই অবস্থায় চোখে ব্যথা, চুলকানি, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া এবং কখনও কখনও মিউকাস বা পুঁজের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পিঙ্ক আইয়ের প্রকারভেদ: পিঙ্ক আই মানে কেমন চোখ লাল বা প্রদাহ নয়। প্রকারভেদ অনুযায়ী পিঙ্ক আই একেক রকমের হয়ে থাকে। চিকিৎসকরা তিন ধরনের পিঙ্ক আইয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো:
ভাইরাল পিঙ্ক আই: ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এই পিঙ্ক আইটি খুব দ্রুত সংক্রমিত হয়। এটি চোখে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব এবং পানি পড়া সৃষ্টি করে। কখনও কখনও, সর্দি বা গলা ব্যথার মতো ভাইরাল সংক্রমণের লক্ষণও দেখা যায়।
ব্যাকটেরিয়াল পিঙ্ক আই: ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে এ ধরনের পিঙ্ক আই হয়। চোখে ব্যথা এবং সেঁটে গাঢ় পুঁজ তৈরি হয়। এই ধরনের পিঙ্ক আই কখনও কখনও স্ট্রেপ গলা ব্যথার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া থেকেও হতে পারে।
অ্যালার্জিক পিঙ্ক আই: অ্যালার্জির কারণে সৃষ্ট পিঙ্ক আই খুবই সাধারণ, বিশেষ করে ঋতুসম্পর্কিত অ্যালার্জি বা ধোঁয়া ও ধূলা জাতীয় কটরদের কারণে। এটি খুবই চুলকানিযুক্ত এবং চোখে লালচে ভাব এবং ফোলা অনুভূতি সৃষ্টি করে, তবে এটি সংক্রমিত নয় এবং সাধারণত অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভালো হয়ে যায়।
পিঙ্ক আই হয়েছে বুঝবেন যেভাবে: ডাক্তাররা সাধারণত পিঙ্ক আই এর উপসর্গ এবং চোখের অবস্থা দেখে এটি নির্ণয় করেন। কখনও কখনও, চোখের স্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে এটি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা হতে পারে।
পিঙ্ক আই কতদিন থাকে: বেশিরভাগ সময় পিঙ্ক আই নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে এটি পুরোপুরি ভালো হতে ১-৩ সপ্তাহ সময় নিতে পারে। যদি এটি ভাইরাসজনিত হয়, তবে সাধারণত ৭-১৪ দিন সময় নিলেও পুরোপুরি সেরে যাবে। ব্যাকটেরিয়াল পিঙ্ক আই কিছু দিনেই ভালো হতে পারে, তবে গুরুতর ক্ষেত্রে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অ্যালার্জিক পিঙ্ক আই অ্যালার্জি ট্রিগার থেকে মুক্তির পরে ঠিক হয়ে যায়।
পিঙ্ক আইয়ের চিকিৎসা
১. ভাইরাল পিঙ্ক আই: সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তবে স্বস্তির জন্য সময়ের সাথে সাথে এটি নিজেই সেরে যায়। তবে কিছু ভাইরাস, যেমন হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস বা ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাস, চিকিৎসাযোগ্য হতে পারে।
২. ব্যাকটেরিয়াল পিঙ্ক আই: এটি প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক চোখের ড্রপ বা লিনামেন্ট দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এই ধরনের চিকিৎসা ইনফেকশন দ্রুত ঠিক হতে সাহায্য করতে পারে এবং অন্যান্যদের কাছে সংক্রমণ ছড়াতে বাধা দেয়।
৩. অ্যালার্জিক পিঙ্ক আই: অ্যালার্জিক পিঙ্ক আই সাধারণত নিজেরাই সেরে যায় যদি অ্যালার্জি তৈরিকারী ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলা হয়। চোখের সতেজতা বজায় রাখতে কিছু বিশেষ চোখের ড্রপও ব্যবহার করা যেতে পারে।
পিঙ্ক আইয়ের উপশমের কিছু সাধারণ উপায়
- চোখে সিক্ত ও সতেজ রাখতে স্নিগ্ধ চোখের ড্রপ ব্যবহার করুন।
- অ্যালার্জি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করুন।
- গরম সেকের সাহায্যে চোখে সান্ত্বনা প্রদান করতে পারেন।
- সতর্কতা অবলম্বন করে অপরিচিত জায়গায় সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করুন।
যদি পিঙ্ক আই সেরে না যায়, অথবা চোখের অবস্থা খারাপ হয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।
Comments