আড়াই মাসের অপেক্ষার অবসান,নওগাঁর ৫ প্রবাসির দাফন সম্পন্ন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঢাকায় মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
পরে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলে আত্রাই ও সদর উপজেলার নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কফিনবন্দি স্বজনদের শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন এলাকাবাসী। এ সময় কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
নিহতদের একজন আত্রাই উপজেলার হাসিবুল হাসান শুভ। পরিবারের ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে কাজ না পেয়ে ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে আরও পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে তাঁর পরিবার। তবে স্বপ্ন পূরণের আগেই কফিনবন্দি হয়ে ফিরতে হলো শুভকে। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শুধু শুভ নন, একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত আত্রাই উপজেলার মিনহাজ, সাগর ও সজিব এবং সদর উপজেলার শাহিনের মরদেহও শনিবার বিকেলে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। তাঁদের শেষবারের মতো দেখতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী ভিড় করেন। প্রিয়জনকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবারগুলোর দাবি, সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো হোক।
বাদ আসর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়। শুধু মাত্র আত্রাইয়ের মধ্যে বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজের মরদেহ আগামীকাল রোববার সকাল ১০ টাউ জানাজা শেষে দাফন করা হবে৷
এদিকে শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। বাকি সাতজনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের পর শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকায় পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনই নওগাঁর বাসিন্দা।
Comments