ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫
ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছেন ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ পয়েন্ট। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এ বছর সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮৪। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ৫৪৭টি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন ৭৩ হাজার ৪২০ জন। তবে পরীক্ষায় বসেন ৭০ হাজার ৬৭৩ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৫৪ জন। গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
গত চার বছরের মধ্যে এবারই ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে কম। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ২২ শতাংশে। তবে ২০২৫ সালে বড় পতন হয়ে পাসের হার নেমে আসে ৫১ দশমিক ৫৪ শতাংশে। এবার তা আরও কমে হয়েছে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় দুই বছরে পাসের হার কমেছে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পয়েন্ট।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে ১৫ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১ হাজার ৫৪৫ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৭১২ জন।
মানবিক বিভাগে ৫০ হাজার ১১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২২ হাজার ৫৫২ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৫ শতাংশ। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫ হাজার ২৭৯ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ২৫৪ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ৭২ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৩৮ জন।
ফলাফলের দুই সূচকেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। ৩৭ হাজার ৬৩৬ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ২০ হাজার ৭০৭ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন।
অন্যদিকে, ৩৩ হাজার ৩৭ জন ছাত্রের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ৬৪৭ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১৮ জন।
জেলাভিত্তিক ফলাফলে শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহ। এ জেলায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে শেরপুরে ৪৫ দশমিক ৬৫, নেত্রকোনায় ৪৩ দশমিক ৯১ এবং জামালপুরে ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এবার বোর্ডের অধীনে থাকা ৩১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটিতে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। বিপরীতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১০২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। গত বছর শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৫টি, আর ২০২৪ সালে ছিল চারটি।
শূন্য পাসের ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ময়মনসিংহের সাতটি, নেত্রকোনার ছয়টি, জামালপুরের চারটি এবং শেরপুরের দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শতভাগ পাস করা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ সিটি কলেজ এবং জামালপুরের ইউনাইটেড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদাত উল্লাহ জানান, ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে পাসের হার বাড়লে সামগ্রিক ফল আরও ভালো হতে পারত। এ ছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এসব বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সচেতনতা ও নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বোর্ড সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, আগের সরকারের সময়ে পড়াশোনা ছাড়াই ভালো ফল করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি অকৃতকার্যদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে ফলাফলের উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Comments