সুরের ভুবনে এক অমলিন নক্ষত্র লতা মঙ্গেশকরের জন্মদিন আজ
উপমহাদেশের সংগীতাকাশের এক অনন্য উজ্জ্বল নক্ষত্র, সুরের জাদুকর লতা মঙ্গেশকর-এর আজ ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের ইন্দোরে এক সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
বাবার হাত ধরেই লতার সুরের জগতে পদার্পণ। তাঁর বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একাধারে শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও থিয়েটার অভিনেতা। তবে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শুরু হয় ১৯৪২ সালে, যখন তিনি পিতৃহীন হন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হয়ে গানকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
সংগীতে তাঁর প্রথম বড় সাফল্য আসে ১৯৪৮ সালে 'মজবুর' সিনেমার 'দিল মেরা তোড়া' গানটির মাধ্যমে। এর ঠিক পরের বছর, ১৯৪৯ সালে 'মহল' চলচ্চিত্রের কালজয়ী গান 'আয়েগা আনেওয়ালা' তাঁকে এক রাতেই এনে দেয় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে; হিন্দি, মারাঠি ও বাংলাসহ বহু ভাষায় গেয়েছেন হাজার হাজার অবিস্মরণীয় গান।
সুদীর্ঘ সংগীতজীবনে অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন অগণিত স্বীকৃতি ও ভালোবাসা।
সর্বোচ্চ সম্মাননা: ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন।
অন্যান্য জাতীয় পদক: পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ এবং চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার।
অন্যান্য পুরষ্কার: একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'ভীর-জারা' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শেষবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামে কণ্ঠ দেন। এর পরেও তাঁর গাওয়া প্রতিটি সুরের আমেজ ভক্তদের হৃদয়ে আগের মতোই নতুন রয়ে গেছে।
সুরের আকাশে চিরন্তন উপস্থিতি
২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান শিল্পী। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শারীরিকভাবে তিনি আমাদের মাঝে নেই, তবে তাঁর সুরের মূর্ছনা আজও উপমহাদেশের প্রতিটি সংগীতপ্রেমীর হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে আছে।
Comments