মেঘের রাজ্যে অস্থিরতা, নেপথ্যে কারা?
সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বৃহস্পতিবার সাজেক ছেড়েছেন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক। দীঘিনালায় সাম্প্রতিক সড়ক অবরোধের মাঝেই ২২ অক্টোবর গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকে পরিস্থিতি এখন আরও উত্তপ্ত। কিন্তু হঠাত কেনো পর্যটকদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠলো মেঘের রাজ্য সাজেক?
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে ১১ অক্টোবর থেকে অবরোধ শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতি ও ভয়ভীতির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর আবারও শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। বন্ধ ঘোষণা করা হয় জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রটি।
এই অস্থিরতায় উঠে এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন—পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নাম। এদিকে জেএসএসের সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন অংশের সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং গুলি ছোড়ার অভিযোগ করেছেন অবরোধকারী সংগঠনগুলো। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে জেএসএস।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে গোলাগুলির ঘটনায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করেছে। যদিও ইউপিডিএফ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই সাজেকের মেঘের আড়ালে অস্থিরতায় বারবার ফিরে আসছে রাজনৈতিক আধিপত্য, ভূমির অধিকারসংক্রান্ত জটিলতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ। আর এই অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তাহীনতায় ব্যাহত হচ্ছে জুমচাষ, আর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় লোকসানে পড়ছেন পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
তবে পর্যটনের চাকচিক্যের ভিড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ ও অধিকার উপেক্ষিত থাকলে সাময়িক শান্তি এলেও অসন্তোষের কারণগুলো থেকেই যাবে।
তাই দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো সংগঠনের শক্তি নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তাই হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
Comments