মামলা আর প্রাণনাশের হুমকি, আত্মগোপনে আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন
বান্দরবান শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বনরুপা এলাকার বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন। একসময় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতা এখন কোথায়—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা থাকার পরও তিনি বান্দরবানে অবস্থান করছেন এবং প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন মহিউদ্দিন। সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি বান্দরবানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও মহিউদ্দিন দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের নজরের মধ্যেই তিনি কীভাবে এলাকায় অবস্থান করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের দাবি, কয়েক দফায় মহিউদ্দিনের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তারা ফিরে আসেন। পরে তাকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
তাদের প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও মহিউদ্দিন কীভাবে এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন এবং তার পেছনে কার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব রয়েছে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহিউদ্দিন। তার দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি তার ওপর প্রাণনাশের চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মো. মহিউদ্দিন। সে সময় বিভিন্ন মিছিল, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যেত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় ওই সময় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। মহিউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে ছাত্রজীবনে তিনি একাধিকবার হয়রানি ও শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে বান্দরবানে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন মহিউদ্দিন।
তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধী পক্ষের নানা অভিযোগ ছিল। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন।
'আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণেই আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে'
মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'শুধু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।'
তিনি জানান, নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে নিয়মিত থাকছেন না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অবস্থান করছেন এবং অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছেন।
Comments