পর্তুগালের জার্সিতে ফিরছেন রোনালদো
জাতীয় দলের হয়ে আবারও মাঠে নামতে প্রস্তুত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উয়েফা নেশন্স লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগালের একাদশে ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নতুন কোচ হোর্হে জেসুস।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ম্যাচের আগে বড় কোনো অঘটন না ঘটলে রোনালদোর মাঠে নামা নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন জেসুস। বিশ্বকাপের পর এটাই জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর প্রথম ম্যাচ।
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে স্পেনের কাছে হারের পর প্রথমবার মাঠে নামছে পর্তুগাল। বিশ্বকাপে রোনালদো করেছিলেন তিন গোল। এর মধ্যে দুটি গোল এসেছিল গ্রুপপর্বে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে।
তবে বয়স ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় জাতীয় দলে রোনালদোর জায়গা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, তাকে ছাড়া পর্তুগালের একাদশ আরও কার্যকর হতে পারে। কিন্তু এসব সমালোচনায় খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না জেসুস। আল নাসরে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ তার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছেন।
জেসুস বলেন, রোনালদো পর্তুগালের ফুটবলের একটি প্রতীক। তবে তার মানে এই নয় যে প্রতিটি ম্যাচেই তাকে খেলাতে হবে। রোনালদো খেললে গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতিও যে অনেক বেড়ে যায়, সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি। ওয়েলসের বিপক্ষে রোনালদোকে খেলানোর পাশাপাশি তার কাছ থেকে গোলের প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন পর্তুগাল কোচ।
জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিষ্কার অবস্থান জানিয়েছেন রোনালদো। বয়স বা সমালোচনা নয়, দলের হয়ে মাঠে অবদান রাখাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোচ তাকে না চাইলে সরে যেতে কোনো দ্বিধা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোনালদোর ভাষায়, দলের হয়ে মাঠে থাকা, গোল করা এবং জয় পেতে সহযোগিতা করাই তার প্রধান লক্ষ্য। যদি কখনো মনে হয় তিনি দলের জন্য আর কোনো অবদান রাখতে পারছেন না কিংবা দল তাকে চায় না, তাহলে নিজেই জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৩৩ ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই তার নাম রেকর্ডের শীর্ষে। তার নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ ইউরো এবং ২০১৮-১৯ ও ২০২৪-২৫ উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা জিতেছে।
ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলা রোনালদোর সামনে জাতীয় দলের হয়ে আরও একটি নেশন্স লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য। ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে সেই নতুন পথচলা।
Comments