July 25, 2017, 8:39 pm | ২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, রাত ৮:৩৯

নাক গলাবে না যুক্তরাষ্ট্র!

bg20130831090128ঢাকা জার্নাল: যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কটে নাক গলাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা।

শনিবার নগরীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেন মজীনা।

মজীনা এ সময় বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোন সিদ্ধান্ত তাদের ভালো হবে সেটা তারাই নির্ধারণ করবে।  যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো মতামত দেবে না।

সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র মডারেটরের ভূমিকা পালন করবে কি না —প্রশ্ন রাখা হলে জবাবে মজীনা একথা বলেন।

মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় সেন্টার ফর ইস্ট এশিয়া ফাউন্ডেশন (সিয়াফ) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মজীনা আরও বলেন, সমুদ্র সম্পদ ও ভূ-রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের সমুদ্র ও সমুদ্র সম্পদের নিরাপত্তা দিতে এসময় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে মার্কিন নৌবাহিনী বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে উল্লেখ করে মজীনা বলেন, কৌশলগত সংলাপে দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের মতামতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আতাউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নাসিম মাহমুদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিয়াফ-এর নির্বাহী পরিচালক নাসিম মাহমুদ। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, সাংবাদিক সাদেক খান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাহেদুল আনাম খান, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল কাজী সারোয়ার হোসেন।

এছাড়া সেমিনারে চীন ও স্পেনের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিক, বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিক, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, চিলি, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ও ভিয়েতনাম প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে টিপিপির সদস্য দেশ। বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষে টিপিপি প্রতিবছর নেগোসিয়েশনের (আলোচনা) আয়োজন করে আসছে। এ বিষয়ে মজীনা বলেন, গতকাল ব্রুনাইতে টিপিপি’র ১৯তম আলোচনা শেষ হয়েছে।

মজীনার আশা, বাংলাদেশ টিপিপি’তে  (ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপ) যুক্ত হবে। তিনি মনে করেন, টিটিপিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। জীবন মানের উন্নতি হবে। এর মাধ্যমেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সহজ হতে পারে।

তবে তিনি মনে করেন, এটা সহজও হবে না। কারণ সদস্য দেশগুলোকে শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হয়।

তিনি বলেন, টিপিপিতে যুক্ত হলে বাংলাদেশ বিশ্বের এক নম্বর পোশাক রপ্তানির দেশে পরিণত হবে। ওষুধ, জুতা, চামড়াজাত, পাটজাত পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য রপ্তানি বাড়বে। বাংলাদেশের সরকার, ব্যবসায়ীমহল ও সুশীল সমাজ টিপিপিতে যোগ দেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মজীনা বলেন, আমি এ রকম মনে করি না। কারণ বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাদের যেটা ভালো মনে হবে সেটাই করবে। তবে জনগণের ভালোর জন্য সরকার কাজ করবে এমনটাই আশা করি।

এ সময় তিনি বলেন, সমুদ্রের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তার রক্ষায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। তিনি বলেন, সমুদ্র সীমা জয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রর নৌযান দ্য কোস্ট গার্ড কাটার জারভিস বাংলাদেশের হাতে আসছে। সমুদ্র নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে কাজে লাগবে জাহাজটি। এটি পরিচালনার জন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

বঙ্গোপসাগরে প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান কনোকোফিলিপস বর্তমানে দু’টি ব্লকে কাজ করছে। আরও একটি ব্লকের জন্য তারা দরপত্র দিয়েছে।

আশা করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে আরও গ্যাসের সন্ধান মিলবে। আমরা সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করছি। সমুদ্রের সম্পদ আহরণেও বাংলাদেশকে সহায়তা করা হবে।

মজিনা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। যারা এ অঞ্চলে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। দুই দেশের মধ্যে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী, গভীর সম্পর্ক বিরাজ করছে। যদিও সব সম্পর্কেই কিছু কিছু মতভিন্নতা থাকে। রোহিঙ্গাদের অমানবিকভাবে ফেরত পাঠানো, গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যকারিতা ও অখণ্ডতার উপর আঘাত, এছাড়া মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে এসব বিষয় নিয়ে মতভেদ দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
রোহিঙ্গাইস্যুতে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে। আমরা প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগত আলোচনার সময় বারবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলেছি।

টিকফা ইস্যুতে বলেন, টিকফা খুবই সাধারণ বিষয়। তবে বাংলাদেশকে তার স্বার্থের উপর নজর রেখে সব কিছু করা উচিত। এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আমি বাংলাদেশের কাছে আহ্বান জানাই। যদি বাংলাদেশ মনে করে তাদের এ চুক্তির দরকার নেই তবে তারা এ চুক্তি নাও করতে পারে। চট্টগ্রামে সপ্তম নৌবহরের ঘাঁটি বসানোর কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

মূল প্রবন্ধে আতাউর রহমান দু’দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্যিক অবস্থা, বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমাদের ভবিষ্যত সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
ঢাকা জার্নাল, আগস্ট ৩১, ২০১৩

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল