June 29, 2017, 9:55 pm | ২৯শে জুন, ২০১৭ ইং,বৃহস্পতিবার, রাত ৯:৫৫

‘মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়বে’

ঢাকা জার্নাল:২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়াবে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

নতুন বাজেটে সহজে আদায় করা যায় এমন খাতের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে সিপিডি বলছে, এতে দেশের সৎ করদাতাদের ওপর করের বোঝা বাড়বে।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনায় এই মতামত তুলে ধরেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা খুব দ্রুততার সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের কাছ থেকে আসতে হবে।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, যেসব খাত থেকে দ্রুত রাজস্ব তোলা যায়, এমন খাত বেছে নিয়ে সেসবের কর বাড়ানো হয়েছে। যেমন ব্যাংকে টাকা রাখায় বা বিমানের টিকিট কেনায় কর বাড়ানো হয়েছে। যারা কর না দিয়ে বিদেশে টাকা নিয়ে যায়, তাদের ব্যাপারে নীতিগত কোনো কার্যকর অবস্থান না নিয়ে সৎ করদাতাদের ওপর আরো করের বোঝা চাপানো নৈতিকভাবে ঠিক না। করের চাপটা মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর বেশি আসবে।

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘একটা বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে তার জন্য অনুকূল প্রাতিষ্ঠানিক নীতি পরিবেশ লাগে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বা সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়নের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাজেটে দেখা যায়নি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মন্তব্য আছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।’

বাজেটের কর ও আর্থিক কাঠামোর নীতির ফলে আগামী মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চালের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম না কমানো- সবকিছু মিলিয়ে আগামী বছর মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়ে গেল। আর মূল্যস্ফীতি বাড়লে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি ‍টাকার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। সে হিসেবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে এক লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

ঢাকা জার্নাল, জুন ০২, ২০১৭।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল