May 23, 2017, 6:48 pm | ২৩শে মে, ২০১৭ ইং,মঙ্গলবার, সন্ধ্যা ৬:৪৮

গেরিলা বাহিনীর ২৩৬৭ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির রায় স্থগিত

high-courtঢাকা জার্নাল: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন যোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন অবৈধ বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (০৯অক্টোবর) অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ৩০ অক্টোবর আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চের কার্যাতালিকায় থাকবে বলেও আদেশ দেন।

৮ সেপ্টেম্বর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩শ’ ৬৭ জন যোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন অবৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট।

ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি এবং প্রাপ্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা দিতেও সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

পরে হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার আদালতে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। গেরিলা বাহিনীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইজীবী সুব্রত চৌধুরী।

২০১৩ সালের ২২ জুলাই গেরিলা বাহিনীর ওই ২ হাজার ৩৬৭ জন যোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- কমরেড মণি সিংহ, প্রফেসর মোজাফফর আহমেদ ও পঙ্কজ ভট্টাচার্য। পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেটিতে ওই গেরিলা যোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকারের তালিকা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন ওই গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ইউনাইটেড ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ঐক্য ন্যাপ) সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। পরে ওই রিটের শুনানি শেষে প্রজ্ঞাপনটিকে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত বলে ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পরপরই ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ও সদস্যরা একটি বিশেষ গেরিলা বাহিনী গঠন করে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি গেরিলা বাহিনীর কমান্ডাররা ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার এবং স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারসহ প্রতিটি সরকার এই বিশেষ গেরিলা বাহিনীকে মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী অন্যতম মুক্তি বাহিনী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।

ঢাকা জার্নাল, অক্টোবর ০৯, ২০১৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *



এই পাতার আরো খবর -

জার্নাল